একটি ট্রেন লাইনের মৃত্যু

আমাদের একটা ট্রেন ছিল। অনেক দিন আগেই সে মারা গেছে; মেরে ফেলা হয়েছে! এই সেদিন পত্রিকান্তরে জানা গেল, শেষকৃত্য হয়ে গেছে আমাদের সেই ছোট্ট, শান্ত ট্রেনলাইনটার। হবে না কেন? আর কত কাল এই বোঝা বইবে সরকার? শেষ পর্যন্ত নিলামটিলাম করে কাদের যেন দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছিল, রূপসা-বাগেরহাট রেললাইনটা খুঁচিয়ে তুলে ফেলার।

একজন সিদ্দিকুর এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস

তারিখটা মনে নেই। রেডিসন হোটেলের ঘটনা। মঞ্চে বসে আছেন তিন বাহিনীর প্রধান। তাদের পাশে একটু সংকুচিত হয়ে বসে আছেন কালো একটি ছেলে; ছেলেটির মুখ থেকে দীপ্তি ঠিকরে বের হচ্ছে। সেনাপ্রধান বক্তৃতা দিতে উঠলেন। দর্শকসারিতে চেয়ে বললেন, ‘এখানে কি সিদ্দিকের মা আছেন?’

কোচ সমাচার

‘কোচ দুই ধরনের। এক দল বরখাস্ত হয়েছে। আরেক দল বরখাস্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।’ কথাটা নিশ্চয়ই এর মধ্যে কয়েক হাজার বার শুনে ফেলেছেন। শুনুন বা না-ই শুনুন, কোথাও কোনো কোচ বরখাস্ত হলে পত্রিকায় তো পড়েছেন নিশ্চয়ই? কিন্তু কোচরা এমন ঘন ঘন ছাঁটাই হন কেন?

প্রফেসর ইউনুস ও দুর্নীতি এবং আমাদের ভাবমূর্তি

শেখ হাসিনা মধ্যবিত্ত ঝগড়াটে মহিলার মতো আচরণ করে ইউনুস সাহেবের সত্যিকারের কোনো ক্ষতি করতে পারেননি। আর্থিক ও জনপ্রিয়তার বিচারে ইউনুস সাহেবের লাভই হয়েছে।

এক খামখেয়ালি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

তিনি বেস্টের মতো খামখেয়ালি, মোৎজার্টের মতো শিল্পী, হিটলারের মতো ইহুদিবিদ্বেষী-নারীবিদ্বেষী এবং আলীর মতো চ্যাম্পিয়ন। তিনি রবার্ট জেমস ফিশার বা ববি ফিশার, দাবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন! নিয়মতান্ত্রিক এই দুনিয়ার প্রতি অনিয়মের এক প্রবল পরিহাস।

প্রথম আলো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রথম আলো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১১

একজন ক্রিকেট-খুনী

(লেখাটি একটু অন্য নামে ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোয়। লোলিত কুমার মোদি: ক্রিকেটকে আক্ষরিক অর্থে প্রায় শেষ করে দেওয়া একজন মানুষের অন্ধকার জীবনের গল্প। কিছুটা সংযোজন-সংস্কার করে প্রকাশ করলাম)




আজ শিমলা তো কাল নৈনিতাল; ছেলেটাকে কোথাও রেখে শান্তি পাচ্ছিলেন না বাবা। স্কুল পালায়, মারামারি করে। একটার পর একটা স্কুল বদলাতে হয়। প্রতিটা স্কুল থেকেই ছেলের নামে অভিযোগ শুনতে শুনতে কান্ত হয়ে যান শিল্পপতি বাবা।
শেষ ভরসা হিসেবে ছেলেকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রে; ওখানে যদি মানুষ হয়। কিসের মানুষ হওয়া! বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই ছেলের আরও অনেক গুণপনা বেরোয়। মাদকসেবন, মাদক পাচার, অপহরণ, হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র আক্রমণ; এমন সব অভিযোগে দফায় দফায় গ্রেপ্তার ছেলে। সব মিলিয়ে এক ছেলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সুশীল ভাবমূর্তির বাবার জীবন।
এমন গুনী ছেলের গল্প খেলার পাতায় কেন? কারণ, এ ছেলেটি আজকের লোলিত কুমার মোদি। যাঁর যন্ত্রণা, পরিবারের গন্ডি ছাড়িয়ে ক্রিকেটে এসে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এই মানুষটির জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল তাবৎ ক্রিকেট দুনিয়া!
২০০৫ সালের আগে একেবারেই ক্রিকেট-বিবর্জিত লোলিত মোদি গত পাঁচ বছরে শুধু ভারতের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতাপশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে তিনি দুনিয়ার অন্যতম মতাধর ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। টাইমস অব ইন্ডিয়ার জরিপে ভারতের ৩০তম মতাধর মানুষ! ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দিয়ে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছিলেন তিন ‘সি’কে: ক্রিকেট, সিনেমা ও ক্রাইম!
মোদিনগরের প্রতিষ্ঠাতা রাজবাহাদুর গুজারমাল মোদির বংশে জন্ম লোলিত মোদির। জন্মেই দেখেছেন মোদি এন্টারপ্রাইজ নামে এক সাম্রাজ্যের মালিক বাবা কৃষাণ কুমার মোদি। স্কুল ও কলেজজীবনে ভারতে যেসব কীর্তি করেছেন মোদি, তার কিছুটা তো লেখার শুরুতেই জেনেছেন।
মোদিকে সভ্য করে তোলার উদ্দেশ্যেই তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ডিউক ইউনিভার্সিটিতে পড়া অবস্থায়, ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ প্রথম গ্রেপ্তার হন তিনি। ৪০০ গ্রাম কোকেন পাচারের অপরাধে মোদিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। অস্ত্র নিয়ে প্রতিপকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানোরও অভিযোগ দায়ের করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত তাঁকে শর্তসাপেে ছেড়ে দিলেও মাসখানেকের মধ্যে আবার গ্রেপ্তার হন মোদি।
২ এপ্রিল, ১৯৮৫ ডিউক ইউনিভার্সিটিরই এক ছাত্রসহ মোদিকে গ্রেপ্তার করা হয় মারামারি ও অপহরণের অভিযোগে। এবার আদালত তাঁকে দুই বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীকালে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে পত্রিকাগুলো এসব পুরোনো অভিযোগ সামনে আনলে সবই অবশ্য অস্বীকার করেন মোদি।
কিন্তু পত্রিকাওয়ালারাও কম যান না। তাঁরা দ্য লন্ডন টাইমস-এর ১৯৮৫ সালের ১ মার্চের সংখ্যাটি খুঁজে বের করেছেন আর্কাইভ থেকে। সেদিনকার টাইমস-এ ‘মাদক ক্রেতাকে বন্দুকের মুখে ছিনতাই: ডিউক ছাত্র ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত’ শিরোনামে একটি সংবাদে লেখা হয়েছিল,‘ ডিউকের ছাত্র, ভারতের নয়াদিল্লির লোলিত কুমার মোদিকে মঙ্গলবার রাতে কোকেন পাচার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে ১৯৮৬ সালে ভারতে ফিরে আসেন মোদি। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তাঁর জীবন কেটেছে ‘মোদি এন্টারপ্রাইজ’-এর নানা ব্যবসায়িক কাজে।
এ সময়ে মোটামুটি ‘নিরুপদ্রব’ জীবন কাটান মোদি। অবশ্য নিরুপদ্রব মানে, একেবারে শান্তশিষ্ট সুবোধ বালকটি নয়। তবে ১৯৯৭ সালে চুক্তিভঙ্গের দায়ে মোদিকে আদালতে তুলেছিল ইএসপিএন। এর মধ্যে দারুণ আলোচনায় আসেন এক দিওয়ালির রাতে এক কোটি টাকারও বেশি জুয়ায় উড়িয়ে অবরুদ্ধ হয়ে গিয়ে। কিছুদিন পর আবার আদালতে হাজির হতে হয় আরব আমিরাতে মাদক পাচারের অভিযোগে; এবার তদন্তের মুখোমুখি হয়ে পার পেয়েছিলেন ক্ষমতাধর বাবার কারণে। এর প্রত্যেকটা ঘটনাই তখন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম কোনোদিনই অনুমান করতে পারেনি, এই লোকটিই একদিন ক্রিকেটের কারণে খবর হবেন।
স্কুল ও কলেজ-জীবনে মোদি খেলাধুলার কিছুটা খোঁজখবর রাখতেন। কিন্তু ক্রিকেট তাঁর আগ্রহের বিষয় ছিল না। তাঁর এক কলেজ বন্ধুর স্মৃতিচারণা, ‘আমি যত দূর মনে করতে পারি, পেলে আর বিয়ন বোর্গ ওর ক্রীড়া-নায়ক ছিলেন; কোনো ক্রিকেট তারকা নয়।’ সেই মোদিই ১৯৯৯ সালে হিমাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হয়ে গেলেন। প্রতিশ্রুতি দিলেন, নতুন একটা স্টেডিয়াম গড়ে দেওয়ার। তবে তার আগেই ২০০০ সালে এই অ্যাসোসিয়েশন থেকে তাঁকে বের করে দেন প্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ।
ততদিনে ক্রিকেটের নেশা ধরে গেছে মোদির। নামটাকে সামান্য বদলে ‘লোলিত কুমার’ করে তিনি নাগোর জেলার প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে (আরসিএ)।
এরপর বন্ধুপ্রতিম বসুন্ধরা রাজে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় মোদি রাতারাতি আরসিএ সভাপতি হিসেবে বিসিসিআইয়ের সদস্য হয়ে যান।
বিসিসিআইয়ের সদস্য হওয়ার পরই তৎকালীন সভাপতি জগমোহন ডালমিয়াকে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ’ (ঠিকই পড়েছেন) নামে সীমিত ওভারের একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যেখানে বিদেশিরাও খেলবেন। ‘অর্থলিপ্সু’ হিসেবে পরিচিতি পেলেও ডালমিয়া এই প্রস্তাব মেনে নিতে পারেননি।
এবার মোদি নতুন ‘খেলা’ শুরু করেন। কংগ্রেসনেতা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ডালমিয়াকে বোর্ড থেকে সরানোর উদ্যোগ নেন। এ কাজে সাফল্যের পুরস্কারও পান মোদি। পেয়ে যান বিসিসিআইর সহ-সভাপতির পদ। পাস হয়ে যায় মোদির ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ পরিকল্পনা; কারণ ততদিনে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল) নামে একটি টুর্নামেন্ট মাথা তুলে ফেলেছে।
এসেল গ্রুপের মালিক সুভাষ চন্দ্রের আইসিএলকে জৌলুশহীন করা ও বিপুল টাকা কামাইয়ের জোড়া লক্ষ নিয়ে যাত্রা শুরু করে আইপিএল। ক্রিকেট দুনিয়ায় শুরু হয় ‘লোলিত মোদি যুগ’।
আইপিএল শুধু বিসিসিআইকে নয়, দুনিয়ার অনেক ক্রিকেটারকেই টাকার পাহাড়ে চড়িয়ে দিয়েছে। আইপিএলের অর্থনৈতিক দাপটে মোদিরা অগ্রাহ্য করতে শুরু করেন ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্রকেও। ২০০৯ সালে সাধারণ নির্বাচনের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় আইপিএলকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যান মোদি। এই ঘটনায় স্পষ্ট ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।
সরকারের সঙ্গে এই দ্বন্দ্বের পরোক্ষ ফলে মোদি ২০০৯ সালে হেরে যান আরসিএ নির্বাচনে। বিসিসিআইতে তাঁর পদই শঙ্কার মধ্যে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আইএস বিন্দ্রার আশীর্বাদে মোদি পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হয়ে যান। ফলে টিকে যায় তাঁর বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি পদ।
কিন্তু শেষ রক্ষা হল না মোদির। আবারও সরকারের সঙ্গে ঝামেলা পাকিয়ে তোলেন এবার আইপিএল চলার সময়। টুইটার-এ তিনি অভিযোগ করেন, আইপিএলের নতুন দল কোচির মালিকানা বান্ধবীকে পাইয়ে দিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর। এ অভিযোগের জের ধরে থারুরকে পদত্যাগও করতে হয়েছে।
এতদিনে মোদির সঙ্গে কংগ্রেস সরকারের বিরোধটা গিয়ে চরমে ওঠে। আগেই আইপিএল দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে কংগ্রেসকে সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন মোদি। সে সময় চিদাম্বরমরা মোদিকে সোজা জেলে ঢুকিয়ে দিতে চাইলেও বেচে গেছেন তিনি শরদ পাওয়ারের আশীর্বাদে। আর এবারের গন্ডগোলে শরদ পাওয়ার,নিরঞ্জন শাহরা মোদির পাশে আর দাড়ালেন না। বরং মোদির বিরুদ্ধে তারাই ব্যবস্থা নিতে শুরু করলেন।
বিসিসিআই সহ-সভাপতির পদ থেকে তাঁর বহিষ্কৃত হওয়াটা এই বিরোধেরই ফল। এতে করে তাঁর আইপিএল চেয়ারম্যান পদটা আপনা-আপনিই হারিয়ে যায়। একটা পর একটা অভিযোগ আসতে শুরু করে মোদির নামে। দল কেনাবেচায় কারচুপি, বেনামে তিনটি আইপিএল দলের মালিকানা নেওয়া, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাজির সিন্ডিকেট পরিচালনা, প্রচারস্বত্বে অস্বচ্ছতা, অবৈধ লেনদেন, আয়করে ফাঁকি, ম্যাচ পাতানোর অভিযোগের ভারে এখন নুয়ে পড়ছেন মোদি।
সম্প্রতি পালিয়ে চলে গেছেন ইংল্যান্ডে। যদিও ইংল্যান্ডে গিয়ে দাবি করেছেন, তিনি ‘পালননি’।
তবে এটাও বলেছেন, আপাতত দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই তার। কারণ ভালো করেই জানেন, হাতকড়া নিয়ে তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চিদাম্বরমরা। একটার পর একটা পুরোনো মামলা জীবিত করে তোলা হয়েছে। একেই বোধহয় ‘ন্যাচারাল পানিশমেন্ট’ বলে!
তারপরও মোদি কিন্তু কথার জোর কমাননি। এখন আমেরিকায় ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে চান। শ্রীলঙ্কায় একটা টি-টোয়েন্টি লিগের নেপথ্য নায়ক হিসেবে কাজ করছেন। আইসিএল নিয়ে অনেক কিছু ফাস করে দিচ্ছেন টুইটারে।
বড় কথা হল তিনি বলছেন, আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। এই ক্রিকেট দুস্কৃতকারী ঘুরে দাড়ালে ক্রিকেট কোথায় গিয়ে দাড়াবে!!!!!

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১১

ভুল, সবই ভুল


কোনো এক দার্শনিকপ্রবর নাকি রাতে বাসায় ফিরে হাতের ছড়িটিকে নিজের বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিলেন। আর ভদ্রলোক নিজে দেয়ালে ঠেস দিয়ে সারা রাত ছড়ির জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন!

এত বড় ভুল করাটা বাড়াবাড়ি! তবে মানুষই ভুল করে। আর ক্রিকেটার, আম্পায়ার কর্মকর্তারা যেহেতু মানুষ তাঁদেরও কিঞ্চিৎ ভুলের নজির আছে।
১৮৩১ সালে ইংল্যান্ডেজেন্টলম্যানবনামপ্লেয়ারদলের মধ্যে একটি ম্যাচের ঘটনা। তখন নিজের দলের সব খেলোয়াড়কে সবাই ঠিকমতো চিনতেন কি না সন্দেহ। জেন্টলম্যান দলে খেলার জন্য চিঠি পাঠানো হলো মিলস নামের এক খেলোয়াড়ের কাছে। মিলসরা ছিলেন দুই ভাই। এক ভাই ক্রিকেট খেলতেন আর এক ভাই খেলতেন না। চিঠিতে শুধুমিস্টার মিলসলেখা ছিল, তাই যে ভাই ক্রিকেট জানতেন না তিনিই চলে এলেন খেলতে!
প্রায় একই ধরনের একটা গোলমাল লেগেছিল ১৮৯০ সালে ইংল্যান্ড সফরে আসা অস্ট্রেলিয়া দলে। নির্বাচকেরা তাসমানিয়ার জে কে বার্ন নামের এক খেলোয়াড়কে দলে নির্বাচন করেছেন বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে। বার্নও দিব্যি জাহাজে চেপে বসেছেন। জাহাজ ছেড়ে দিল। তখন আলাপ-আলোচনায় বার্ন বললেন, িনি জীবনে কোনো দিন উইকেটরক্ষণ করেননি! স্রেফ ভুল করে আরেক বার্নের চিঠি চলে গেছে তাঁর কাছে!
এটুকুও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু ভুল করে কি কেউ আউট হতে পারে? আজকাল পারুক আর না- পারুক, সেই ১৮৭০ সালে ওভালে সারে বনাম এমসিসি ম্যাচে ভুল করে আউট হয়েছিলেন জে সাউদারটন। ভদ্রলোক ভেবেছিলেন উইকেটরক্ষকের ধরা বলটা তাঁর ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। চিন্তায় বোলার আবেদন করার আগেই উইকেট ছেড়ে চলে গেলেন সাউদারটন।
আজকের দিনের আইন অনুযায়ী রকম ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানকে আম্পায়ার ফিরিয়ে আনার কথা। কিন্তু আইন তখন ছিল না। তাই সাউদারটন আউটই হলেন। কিন্তু স্কোর কার্ডে কী লেখা হবে? অসহায় স্কোরার লিখে রেখেছিলেনঃ
জে সাউদারটন-অবসর, ভেবেছেন তিনি আউট-
ভুল করে নয়, ইচ্ছা করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার নজিরও আছে। ট্রেন্ট ব্রিজে বডিলাইনখ্যাত দুরন্ত ফাস্ট বোলার লারউডের (যার বলের আঘাতে অনেক ক্রিকেটারের হাসপাতালে যাওয়ার দুর্ভাগ্য হয়েছে) মুখোমুখি হয়েছিলেন ্নিথ নামের এক বা ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান। কোনোক্রমে একটা বল খেললেন, ক্যাচ উঠল, ফিল্ডার ধরলেন কি ধরলেন না। ্নিথ ব্যাট বগলদাবা করে হাঁটা শুরু করলেন। সঙ্গী ব্যাটসম্যান ডাক দিয়ে বললেন, ‘দাঁড়াও, যেয়ো না। ওটা তো ভালো ক্যাচ না, সম্ভবত ড্রপ ক্যাচ হয়েছে।্নিথ ফিরে বললেন, ‘আউট হওয়ার জন্য ক্যাচটা হয়তো ভালো হয়নি, কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ভালো হয়েছে।
বাঁচানো মানে লারউডের হাত থেকে বাঁচানো। প্রায় একই রকম আরেকটা গল্প শোনা যায় এন নক্স নামের এক ফাস্ট বোলারের ক্ষেতরে। কোনো এক ব্যাটসম্যান নাকি নক্সের বল খেলতে গিয়ে এতই ভয় পেয়েছিলেন যে ইচ্ছা করে স্টাম্প বাড়ি দিয়ে ফেলে দিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় সবাইকে উদ্দেশ করে বলে গিয়েছিলেন, ‘শুভ বিকেল, ভাইয়েরা। আমি গেলাম, বাড়িতে আমার জন্য কান্নার মতো বউ-ছেলে-মেয়ে কেউ নেই।
এই দ্যাখেন। ভুলের গল্প ভুল করে কোথায় চলে গেছে। যাক গে। ভুল দিয়েই শেষ করা যাক। এবার আমাদের দেশি একটা ভুল।
কদিন আগের ঘটনা। দেশের ক্রীড়া বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মানুষ জাতীয় ক্রিকেট দলের অনুশীলন দেখতে গেছেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। গিয়েই আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, আমাদের সেই আশরাফি খেলোয়াড়টা কই?’
বাংলাদেশ দলে আশরাফুল আছে, মাশরাফি আছে। আশরাফিটা আবার কে! কিন্তু আশেপাশের লোকজন বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেনআশরাফি কে?’ কর্মকর্তা মহাবিরক্ত হয়ে বললেন, ‘ওই যে আশরাফি, আশরাফি। ভালো লে। অনেক টাকা দিয়ে আইপিএল না আইসিএল কারা জানি কিনেছে।
ততক্ষণে সবাই বুঝে ফেলেছেন যে আশরাফি বলে আলাদা কেউ নেই। কর্মকর্তা আশরাফুল আর মাশরাফিকে মিলিয়েসংকরক্রিকেটার তৈরি করেছেন! কিন্তু এখন উপায় কী? ‘আশরাফিকে কীভাবে হাজির করা যায়।
এক ক্রিকেট কর্মকর্তা বুদধি করে দুজনকেই নাকি ডেকে এনেছিলেন। ভাবখানা এমন-বেছে নিন আপনার আশরাফি!
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুন ২৯, ২০০৯

ক্রিকেট জনকদের ক্রিকেট


স্বর্গ নরকের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ হবে। তাই খুব উত্তেজনা। দুই পক্ষই যার যার দল নিয়ে খুব আশাবাদী। ঈশ্বর অবাক হয়ে শয়তানকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি জয়ের আশা করছ কীভাবে? সব ভালো খেলোয়াড় তো স্বর্গে আছেন।শয়তান মুচকি হেসে জবাব দিল, ‘তাতে সমস্যা নেই। সব আম্পায়ার তো আমার ওপাশে। 

এতটা বোধ হয় সত্যি নয়। দু-চারজন আম্পায়ারের ভাগ্যে নিশ্চয়ই স্বর্গ জুটবে। দু-একজন পুণ্যবান আম্পায়ার কি দুনিয়ায় নেই? তবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সদ্য শেষ হওয়া সিরিজের কোনো আম্পায়ারের নাম পুণ্যবানের তালিকায় দেখলে সাকিবেরা চটে যেতে পারেন। 
সাকিবেরা চটবেন কি না সেটা পরের কথা। আপাতত সমর্থকদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, এই আম্পায়ারদের স্বর্গ-নরক বা কিছু একটা প্রাপ্তি দ্রুত হলেই সবাই স্বস্তি পান। পত্রিকা অফিসে ফোন করে এই সিরিজের আম্পায়ারদের শাপশাপান্ত তো চলছেই। সেই সঙ্গে চলছে অবধারিত প্রশ্ন, ‘ভাই, আম্পায়াররা এমন করে বাংলাদেশের বিপক্ষে কাজ করল কেন?’ 
কথাটা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। আসলে বাংলাদেশের বিপক্ষে আম্পায়ারিং হয়েছে, নাকি ইংল্যান্ডের পক্ষে? ইংল্যান্ডকে সমূহ বিপদ থেকে বাঁচাতে আম্পায়ারদের এমনখেলোয়াড়বনে যাওয়াটা িতান্ত নতুন কিছু নয়। এসব ক্ষেত্রে আইসিসিও সাধারণত নীরব ঋষির ভূমিকা পালন করে। 
আর এসব দেখেই একবার চটেছিল খোদ ইংল্যান্ডেরই একটা পত্রিকা। তারা ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জেতানোর কিছু পথ বাতলে দিয়েছিল। সে জন্য নতুন কিছু আইন প্রণয়ন করতে হতো
আইন-: অস্ট্রেলিয়া যদি ‘x’ খ্যক রান করে, তাহলে ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য ‘x/+রান করতে হবে। অর্থাৎ ১২২ রানের জবাবে ৬২ রান করলেই জয়। আর ইংল্যান্ড আগে ব্যাট করলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সময় ওভার-সংখ্যা অর্ধেক করে দেওয়া হবে। তার পরও অস্ট্রেলিয়া জিতে গেলে ইংল্যান্ডকেমনস্তাত্ত্বিক বিজয়ী’ ঘোষণা করা হবে। 
আইন-: ইংল্যান্ড যখন ফিল্ডিং করবে, কোনো ফিল্ডার বল ছোঁয়ামাত্র বলডেডহয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া হবে। ব্যাটসম্যানরা আর রান করতে পারবে না। 
আইন-: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতি তিনটি নিশ্চিত আবেদনে একটির বেশি আউট দেওয়া চলবে না। বিপক্ষ ব্যাট করার সময় নিয়মটা উল্টে যাবে। আবেদন ছাড়াও দু-চারটে আউট দেওয়া যেতে পারে। 
এসব নিয়ম চালু করার উপায় থাকলে ক্রিকেটের জনকেরা নিশ্চয়ই সে কাজ করতে ভুল করতেন না। আম্পায়ারের জোরে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঠেলেঠুলে ম্যাচ জেতা যায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তো আর ওই কৌশল চলে না!
সামনেই আবার অ্যাশেজ আসছে। আরও একবার ইংলিশ ক্রিকেটেছাইদেখার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার হাতে ইংল্যান্ডকে এমন নাকাল হতে দেখে বড় বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন ইংল্যান্ডের সাংবাদিকেরা। 
শেষমেশ নিচের প্রশ্নোত্তরগুলো ছেপে দিয়েছিল আরেকটি ইংলিশ পত্রিকা
প্রশ্ন: একজন ইংলিশ ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ আশাবাদী কাজ কী?
উত্তর: সানস্ক্রিন মাখা। কারণ, রোদ মুখে লাগার আগেই তাঁরা ড্রেসিংরুমে ফিরে আসেন। 
প্রশ্ন: ম্যাকগ্রা ইংল্যান্ডে জন্মালে কী হতেন?
উত্তর: ব্যাটিং অলরাউন্ডার। মনে রাখবেন, ম্যাকগ্রার ব্যাটিং গড় টেস্টে .৩৬ ওয়ানডেতে .৮৩!
প্রশ্ন: ইংলিশ ক্রিকেটারের হ্যাটট্রিক মানে কী? 
উত্তর: ইংলিশ বোলারদের ডিকশনারিতে এখন আরহ্যাটট্রিকবলে কিছু নেই। ব্যাটসম্যানদের কেউ পর পর তিন বলে রান পেলে সেটাই হ্যাটট্রিক। 
প্রশ্ন: কোনো ইংলিশ ক্রিকেটারের নামের পাশে ১০০ রান দেখলে কী বুঝবেন?
উত্তর: সে অবশ্যই একজন বোলার। 
প্রশ্ন: নাসের হুসেন, মার্ক রামপ্রকাশ, গ্রায়েম হিক, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, কেভিন পিটারসেনরা দলের বাকিদের চেয়ে কেন এগিয়ে থাকেন? 
উত্তর: অন্তত এটুকু বলতে পারেন যে আমরা তো আসলে ইংলিশ নই। 
প্রশ্ন: একজন ইংলিশ ক্রিকেটার কখন নিশ্চিত করে বলতে পারেন, এই ওভারে উইকেট পড়বেই?
উত্তর: যখন তাঁর হাতে ব্যাট থাকে। 
প্রশ্ন: মাইকেল জ্যাকসন আর অ্যালেক স্টুয়ার্টের (সাবেক ইংলিশ উইকেটকিপার) মধ্যে মিলটা কী?
উত্তর: দুজনই হাতে দস্তানা পরতেন। যে দস্তানার কোনো ব্যবহার কেউ কখনো দেখেনি

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites